Connect with us

এইডস এর কারন লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়

রোগ ব্যাধি

এইডস এর কারন লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়

এইচআইভি ( Human Immunodeficiency Virus) ভাইরাস যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে দুর্বল করে তোলে  । এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস সংক্রমন যা কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে যেমন তীব্র এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ, উপসর্গহীন এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ , উপসর্গ যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ  এবং এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ স্টেজ হল এইডস ( AIDS ) । 

এইডস এর কারন কী ? এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় ?

  • এইচআইভি সংক্রমণ ছড়ানোর সব থেকে সাধারণ কারণ হল আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ  যৌণ মিলন। 
  • এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করলে ।
  • শেভিং করতে একই ব্লেড বার বার বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবহার করলে ।
  • গর্ভবতী মহিলা  যদি এইচআইভি আক্রান্ত হয় তবে তার গর্ভস্থ শিশুও এইচআইভি পজেটিভ হবে ।
  • সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা ইনজেকশনের ছুঁচ সুস্থ ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করলে ।

এইচআইভি / এইডস এর লক্ষণ গুলি কি ?

তীব্র এইচআইভি সংক্রমণ

এইচআইভি সংক্রমণের প্রথম ৪ থেকে ৭ সপ্তাহের  দিকের লক্ষণ গুলি সাধারন ফ্লু  এর মতন হয়।

যেমন-

  • জ্বর আসা।
  • কাঁপুনি হওয়া।
  • ত্বক এ আলার্জি হওয়া।
  • বেশি ঘাম উৎপন্ন হওয়া।
  • শিরা বা মাংসপেশি তে টান ধরা।
  • গলা ব্যাথা করা।
  • পেট খারাপ হওয়া।

এই লক্ষণ গুলি শরীরে আসতে থাকবে আবার চলে যাবে যাকে  তীব্র এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ বলা হয় ।

উপসর্গহীন এইচআইভি সংক্রমণ

  • তীব্র এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ এর পর তেমন কনও লক্ষণ দেখা যায় না এবং এটি সুপ্ত অবস্থায় থাকে যাকে উপসর্গহীন এইচআইভি সংক্রমণ স্টেজ বলা হয়, এটির স্থায়িত্য ১০ বছরেরও বেশি হতে পারে ।

উপসর্গ যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণ 

  • এর পরবর্তী স্টেজ হল  উপসর্গ যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণ যাতে এইডস এর লক্ষণ গুলো ভালো ভাবে প্রকাশিত হতে শুরু হয় । শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে এবং জ্বর, ঘাম, ত্বকের সমস্যা এবং ক্লান্তি দেখা যেতে পারে ।

এইডস ( AIDS )

  • উপসর্গ যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণ এর পরবর্তী স্টেজ হল এইডস যাকে এইচ আই ভি  সংক্রমণের সর্বশেষ স্টেজ বলা হয় । আর এই শেষ স্টেজে  এইচ আই ভি  শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
  •  এই অবস্থায় শরীর খুব তাড়াতাড়ি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং প্রোটোজোয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়, ফল স্বরুপ আক্রান্ত বাক্তির ডায়রিয়া,জ্বর এবং ওজন হ্রাসের মতো ( ১০-১৫ % ওজন কমে যাওয়াটা সাধারন ব্যাপার ) সমস্যা দেখা দেয় । 
  • ম্যালিগন্যান্ট রোগ যেমন কাপোসির সারকোমা , স্নায়ু রোগ ( Neurological Disorder ) দেখা যায় । 
  • তাছাড়া গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট, ফুসফুস, লিভার,কিডনি এবং অগ্ন্যাশয়  ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।
  • দীর্ঘস্থায়ী ডাইরিয়া শুরু হয় , ইনফ্লুয়েঞ্জা বা এমনকি লির্নপ্লোমা (ক্যান্সার) এর মতো সমস্যা হতে থাকে ।

আপনি কি ভাবে জানবেন আপনার এইচআইভি আছে কি না ?

আপনি আপনার রক্ত পরীক্ষা করালে সেই রিপোর্ট থেকে বুঝতে পারবেন আপনি এই রোগে সংক্রমিত কি না। কোনো স্বাস্থ্য সংস্থা বা কোন ডাক্তারের কাছে গেলে আপনি এই টেস্ট করতে পারবেন। এছাড়াও এখন হোম টেস্টিং এর সাহায্যে বাড়িতে বসেই এই পরীক্ষা করা সম্ভব।

এইচআইভি/এইডস এর চিকিৎসা পদ্ধতি কি?

এইচআইভি নির্মূল কর্বার কোনো পদ্ধতি নেই, তবে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। এন্ট্রিরেটরেভাইরাল (ART) থেরাপি দ্বারা এই রোগ কে কমিয়ে রাখা যায় বা এর দ্বারা এই রোগ অপর ব্যক্তির মধ্যে ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়। এইচআইভি সংক্রমিত মানুষ সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে এন্ট্রিরেটরেভাইরাল (ART) থেরাপি নিলে। এই সময় আপনার নিয়মিত ওষুধ এবং পারিবারিক সাহায্যের প্রয়োজন সুস্থ, সচ্ছল জীবন যাপনের জন্য।

এইচআইভি/এইডস প্রতিকারের উপায় কি ?

  • যৌন মিলনের সময়  প্রোটেকশন  ( যেমন – কনডম )  ব্যবহার করা প্রয়োজন ।
  • সন্দেহ হলে এইচআইভি টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন ।
  • সেলুনে শেভিং করতে গেলে অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে ।
  • একই ইনজেকশনের সুচ একজনের জন্য একিবার ব্যবহার করতে হবে , খেয়াল রাখতে হবে এটি যাতে দ্বিতীয় বার ব্যবহার করা না হয় ।
  • জনগন কে এইচাআইভি/এইডস এর উপর বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ( NATIONAL AIDS CONTROL PROGRAMME ) সমাজে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে ।

এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা 

  • এইচআইভি/এইডস হলে মৃত্যু নিশ্চিত –  না আজকাল এইচআইভি/এইডস হলে চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি স্বাভাবিক জীবন জাপন করতে পারবেন কিন্তু আপনার সতর্ক থাকতে হবে ।
  • এইচআইভি আক্রান্ত মানেই এইডস – এইচআইভি এইডস এর কারন এর মানে এটা নয় যে এইচআইভি আক্রান্ত হলেই আপনার এইডস হয়ে যাবে । আজেকের সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রন সম্ভব ।
  • এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা যাবে না – এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসলে , কোলাকোলি করলে , একই বিছানায় শুলে কনও সমস্যা হয় না । এটি শুধুমাত্র যৌন মিলন এবং রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় । তাই কনোও এইচআইভি আক্রান্ত রোগী কে অবহেলা  করা বা অছুত হিসেবে দেখা উচিত নয় ।

এইচআইভি প্রতিরোধে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে ঠিকই তবে এর জটিলতা কিন্তু কম হয় নি তাই এইচআইভি প্রতিরোধে আপনাকে আপনার এবং সমাজের সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে ।

এইচআইভি/এইডস রোগীর ডায়েট

এইডস এর সংক্রমনে পুষ্টিবিদরা সাধারনত উচ্চ ক্যালোরি , উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবারের কথা বলে থাকেন । বিস্তারিত জানতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়াই ভালো ।

নমস্কার ,আমি বিনায়ক ব্যানার্জী। আশুতোষ কলেজ থেকে Communicative English hons. নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর শ্রীরামপুর কলেজ থেকে Mass communication and journalism এ ডিপ্লোমা করি। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার (Health Blogger/Health Content Writer) হিসেবে কাজ করি।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

More in রোগ ব্যাধি

Trending

ডায়েট

To Top

You cannot copy content of this page